যেভাবে একটি ব্যক্তিগত শোক রূপ নিয়েছিল সমাজের জন্য এক দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতিতে।
আমাদের গ্রামে এম. সুমন ছিলেন এমন একজন তরুণ, যিনি নিজের সুযোগ-সুবিধার আগে সবসময় ভাবতেন প্রতিবেশীর কথা। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি এলাকার অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতেন, ছোটদের বিনামূল্যে পড়াতেন, আর স্বপ্ন দেখতেন এমন একটি সংগঠনের যা গ্রামের প্রতিটি মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকবে।
অসময়ে তাঁর চলে যাওয়া গোটা এলাকাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। কিন্তু তাঁর বন্ধু, সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন — শোকে থমকে না গিয়ে তাঁর স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই জন্ম নেয় "এম. সুমন স্মৃতি সংঘ" — একটি নাম, যা প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয় সেবার প্রতিশ্রুতি।
আজ আমরা একটি নিবন্ধিত সামাজিক সংগঠন হিসেবে কাজ করছি, তবে ভেতরের চেতনাটা সেই প্রথম দিনের মতোই আছে — মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিদান ছাড়াই।
এম. সুমন স্মৃতি সংঘের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় বন্ধু ও পরিবারের উদ্যোগে, স্থানীয় পর্যায়ে ছোট পরিসরে।
প্রথম রক্তদান শিবির আয়োজিত হয়, স্থানীয় হাসপাতালের সহযোগিতায়, যেখানে ৪০ জনের বেশি স্বেচ্ছায় রক্ত দেন।
মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বার্ষিক শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়।
দুর্যোগ ও মহামারীকালীন সময়ে খাদ্যসামগ্রী, শীতবস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে ব্যাপক ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সংগঠনটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত হয় এবং কার্যক্রমের পরিধি আরও কয়েকটি পার্শ্ববর্তী গ্রামে সম্প্রসারিত হয়।
প্রতি বছর নতুন উদ্যোগ, নতুন স্বেচ্ছাসেবক আর একই পুরনো প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমাদের পথচলা অব্যাহত।
প্রতিটি অনুদান ও অনুষ্ঠানের হিসাব স্বচ্ছভাবে সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিদান নয়, মানুষের প্রকৃত প্রয়োজনই আমাদের প্রতিটি কাজের মূল প্রেরণা।
বয়স, পেশা নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে কাজ করার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রতিটি সহায়তা প্রদান করা হয় সম্মান বজায় রেখে, কোনো প্রকার প্রচারের আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই।